Judge or Friend, Farzana, বিচারক না বন্ধু?,  ফারজানা মাওলা অজন্তা

ছবিটা হচ্ছে এরকম:
গ্রামের পরিবেশে, একটা দশ কি বারো বছরের বাচ্চা মেয়ে, স্কুলের পোশাক পরা, কাঁধে ব্যাগ, নিজের হাতে ধরা সিগারেটএ আগুন ধরাচ্ছে। ক্যাপশনে লেখা আছে, “এর বাবা মা যেন জানতে পারে, তাই এই ছবিটা যতদুর পারেন, ছড়িয়ে দিন”।

ছবিটা আমি দেখেছিলাম ফেসবুকে। দেখে প্রাথমিক ধাক্কা যেটা লাগার সেটা আমার লেগেছিল ঠিক-ই। মনে হয়েছিল, বেয়াদব মেয়ে!
কিন্তু ক্যাপশনটা দেখে আমার পর পর কতগুলো ছবি ভেসে উঠলো। যখন এই ছবিটা ওর অভিভাবকরা বা ওর গ্রামের মানুষরা দেখবে, হয়ত মেয়েটার পড়াশোনা বন্ধ করে দেবে। হয়তো অকালে বিয়ে দিয়ে দেবে। হয়তো সেই সংসারে নির্যাতনের আর সীমা থাকবেনা। এভাবেই একটা ছোট্ট ভুলের কারণে একটা মেয়ের জীবন হয়ত পথে বসে যায়। এখনো আমাদের দেশে এরকম হয়, আমরা সেটা সবাই জানি।

এটা ঠিক যে ছেলেদের চাইতে মেয়েদের বেলায় আমরা অনেক বেশী ক্ষমাহীন। একটা ছেলের এরকম কোনো ছবি দেখলেই আমরা বিচারক হয়ে বসতাম না। অচেনা ছেলেটির ছবি ছড়িয়ে দেয়ার মত নিষ্ঠুর হতাম না।

অভিভাবকত্বের কোনো user guide পাওয়া যায়না। গেলে খুব ভালো হত। কখনো না কখনো দ্বিধাগ্রস্থ হননি, এমন অভিভাবক খুব কম আছেন। একেবারে আদর্শ অভিভাবকত্ব বলেও কিছু কি আছে?

অভিভাবক হিসাবে আমাদের কাছে, আমাদের এই পরবাসী বাঙালী বাবা মা দের কাছে সবচাইতে বড় সংকট হলো, লোকে আমার সন্তান সম্পর্কে কি ভাববে?

আর আমাদের সন্তানদের কাছে বোধ হয় সব চাইতে কঠিন লাগে সেই সময়টাই, যখন ওরা বোঝে আমরা ওদের ওপর আস্থা রাখছিনা, ওদের বিশ্বাস করছিনা।

নিজেকে আমার সন্তানের অবস্থান থেকে দেখা খুব কঠিন, এবং তার উল্টোটাও কঠিন। যদি আমরা বন্ধুর মত বুঝতে পারি যে, ওদের প্রজন্মের stress গুলো আমাদের সময়ের চাইতে আরেকটু জটিল, কারণ সময়ের নিয়মে এরকমই হবার কথা, তাহলে বোধ হয় আমরা ওদের আরেকটু ভালো করে বুঝতে পারব।

আর যদি নিজেকে এবং সেই সাথে সন্তানকেও বোঝাতে পারি যে, আমার সন্তানের জীবনটা তারই। আজকে যে জীবনটাকে সে গড়ে তুলছে, সেটার দায়িত্ব যেমন তার, সেটার ফলাফলও তার কাছেই আসবে – তাহলে হয়ত অনেক তর্ক-বিতর্ক কমে আসবে।

এক মুহুর্তের একটা ছবি কিছুই প্রমান করেনা। ছবির পেছনের গল্পগুলোকে অনুধাবন করতে হবে। অভিভাবক মানে বিচারক নয়, অভিভাবক আসলে সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

“Your children are not your children.
They are the sons and daughters of Life’s longing for itself.
They come through you but not from you,
And though they are with you yet they belong not to you.”
— Kahlil Gibran

Facebook Comments