মুক্তি নাঈমা চৌধুরী, Freedom by Nayeema Chowdhury

507

মুক্তি নাঈমা চৌধুরী, Freedom by Nayeema Chowdhury

শববাহী মিছিলটা থেমে গেল হঠাৎ
আত্মার আর্ত চিৎকারে,
থামো…কোথাও নিয়ো না ওকে,
ওই দেহে লেখা আছে বঞ্চনার সমগ্র ইতিহাস।
ব্যবচ্ছেদ করে দেখ,
মিলে যেতে পারে স্বপ্ন কোনো,
ওই নিষ্পলক চোখে।
নাহ্…ভুল বললাম,
স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিয়েছে সে বহুকাল,
ওখানে এখন পাবে কেবলই দু:স্বপ্ন।
চোখের কোলে কালো দাগ দেখে
কাজল ভেবো না,
সেটা ওর নির্ঘুম রাতের স্বাক্ষী।
রঙিন ঘুড়ির কাগজে ঠোঁট রাঙিয়ে,
তেপান্তর পেরিয়ে ছুটে চলা সেই দুরন্ত কিশোরী,
আচমকা ঘরকুনো হয়ে উঠেছিল অনাকাক্ষিত এক চুম্বনে।
কামের সংজ্ঞা তখনও জানা ছিল না তার,
বোঝেনি সে তার রাঙানো ঠোঁটের
কোনো অন্য মানে করতে পারে কেউ।
বাবা বলত, ওই হাসি দিয়ে নাকি বিশ্ব জয় করা যায়,
কিন্তু বিশ্ব জয় করতে তো চায়নি মেয়েটা
শুধু নিজের, একান্ত নিজের
ছোট্ট একটা ভুবন চেয়েছিল।
আর তারও অনেক পরে
মনের গহীণে একটা আশা জেগেছিল শুধু,
একজন মানুষের মন জয় করবে একদিন
আর রাজত্ব করবে সেখানে
দাপটের সাথে একা।
তখন সে তরুণী,
তখনও তার স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্ন হয়ে যায়নি।
তখনও তার সরল চোখে
এই অনন্ত পৃথিবীর সবই সুন্দর দেখাতো।
হ্যাঁ…একটা মানুষকেই মানুষ ভেবে
ভুল করেছিল সে,
সেই মানুষ নামক অমানুষটা তাকে
জয় নয়, অধিকার করতে চেয়েছিল।
মন ছিল কি তার?
অনুভব করেনি তো কোনদিন।
ওই দেহে যত কালশিটে, কাটাছেঁড়া দেখবে
সবই সেই অমানুষটার দান।
তবু বেঁচে ছিল মেয়েটা,
বাঁচতে চেয়েছিল।
বাঁচার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়,
তার জঠরে তিল তিল করে বাড়ছিল
ছোট্ট যে প্রাণ তাকে বাঁচাবে বলে।
কিন্তু…বাঁচতে দেয়া হয়নি তাকেও,
ভালোই হয়েছে আসেনি সে,
বেঁচে গেছে…বড্ড বেঁচে গেছে,
মেয়ে হয়ে জন্মাতে হয়নি
এই অমানুষদের পৃথিবীতে।
গলায় যে দাগটা দেখছ
সেটা নিজের দেয়া,
ওটা কিছু নয়, ওটা ছিল মুক্তি।
ওই দেহে সবচেয়ে ছিন্নভিন্ন যে প্রত্যঙ্গটি
শত ব্যবচ্ছেদেও দেখতে পাবে না তোমরা,
ওটা হৃদয়,
ওটা এখন বড্ড শান্ত।

 

Facebook Comments