ইমিগ্রান্ট কড়চা, MosaïCanada 150/Gatineau 2017 and ILEAD 2017, Asma Khan

193

কালবৈশাখী ঝড়ে কখনও সখোনও শিলা বৃষ্টি আমাদের ছেলেবেলার অত্যান্ত আনন্দময় স্মৃতি। বছরের ছয় মাস তুষার ঝড়ে এমন দেশে বসত করতে যখন চলে এলাম, বিস্ময়ের অনেক কিছুই যে ছিল সেটা অহরহ অনুভব করি। দেড়’শ বছরের স্বাধীনতা উপলক্ষে রাজধানী অটোয়া যে মানুষকে এমন ভাবে অনুপ্রানিত করবে ভাবতেও পারিনি!

এমনিতে আমি গাছপালা পছন্দ করি, আমার ছেলেপিলেরা বলে আমি নাকি আমার ‘সবুজ বাচ্চা’দের বেশী পছন্দ করি তাদের চেয়ে। এটা বোধ হয় একটু বাড়িয়ে বলা। তবে প্রতি বছর জুন মাসের অপেক্ষায় থাকি বাগান করার জন্য। তো এবার তুমুল বৃষ্টি যেন সে আশায় ছাই ঢেলে দিচ্ছে। কোন সপ্তাহ বৃষ্টি ছাড়া যায়নি। তিন বার ফুল গাছ লাগালাম, গাছের গোড়ায় পানি জমে শিকড়ই পঁচে যাচ্ছে। লাউ, কুমড়ো উচ্ছের গাছ এখনো মাচার নীচেই ঝিমোচ্ছে, পোকার উৎপাতে শীম আর মরিচের করুন দশা। এই বিরূপ আবহাওয়ায় অটোয়া রিভারের পাশে Jacque carter Park এ গিয়ে আধুনিকতম শিল্প নিদর্শন দেখে আমার ঐ কল্পকারদের প্রতি াভিভুত শ্রদ্ধায় বারবার মনে হয়েছে ‘ও কানাডা’! আমাদের অন্তরটাকে রিচার্জ করার এমন মোক্ষম সুযোগ বোধ হয় খুব বেশি মিলবেনা।

কানাডা ইমিগ্রান্টদেরই দেশ, সন্দেহ নেই। কিন্ত এদেশের এক সমৃদ্ধ অতীত আছে, কেমন করে সুদূরের দুই মহাসাগরের তটভুমি ছুয়ে যাওয়া বিশাল এই দেশের জন্ম, উন্নতির শিখরে উঠে সারা বিশ্বে আশার আলো বিকিরন করছে সেটার টুকরো টুকরো স্বপ্ন কল্পনাটা ইতিহাসের লুকিয়ে থাকা পাতা থেকে এনে এমন শৈল্পিক এবং কারিগরী দক্ষতায় উপস্থাপন করা হয়েছে মুগ্ধ বিস্ময়ে ঐতিহ্যকে উপলব্ধি করে অনুপ্রানিত হতে হয়।

MosaïCanada 150/Gatineau 2017 এ প্রবেশ করে প্রথমেই চোখের সামনেই দেখি একটা ট্রেন, ইঞ্জিনের নাম্বার ৩৭৪ সেই ঐতিহাসিক ট্রেন যেটা প্রথম ট্রান্স কানাডা ভ্রমন করার জন্য যাত্রা করে ছিল। মনোযোগের কেন্দ্র কিভাবে দখল করে? ট্রেনটি আগাগোড়া সতেজ গুল্ম দিয়ে মোড়ানো, সর্বত্র সুদক্ষ যত্নের স্পষ্ট ছাপ। প্লাটফর্মে Anne of Green Gables এর বিশাল ত্রি-মাত্রিক ভাস্কর্য। সেটাও বিভিন্ন  লতা ও গুল্ম দিয়ে বানানো। নুতন জীবন শুরু করতে আসা অনাথ কিশোরী Anne এর স্বপ্নময় অবয়বে ফুটে উঠেছে imagination এর যে দ্যুতি সেই আলোতেই আমরা যাত্রা শুরু করি। পথের দুই পাশে কি যে সুন্দর গুল্ম লতা দিয়ে বানানো ভাস্কর্য! বিভোর হয়ে দেখার মত! এটা শুধু হট্রি কালচারাল ফ্লাওয়ার শো নয়, বরং মাল্টিকালচারাল কানাডার প্রতিটি প্রভিন্সের ইমিগ্রান্টদের পরস্পরের গ্রহণ, আশা, মৈত্রীর ঐতিহাহাসিক প্রতীক ধর্মী শিক্ষনীয় শো-কেস! পুরো সামার খোলা থাকবে, সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত, এডমিশন ফ্রি।

১৫ ই জুলাই EY Center এ হয়ে গেল I.LEAD এর পঞ্চম কনফারেন্স। এবারের থিম ছিল With hardship comes ease. এক অর্থে এ কনফারেনসটি মুসলমানদের জন্য ভবিষ্যৎবানী, সতর্ক অধিকার বার্তা। সারা বিশ্বে যেভাবে তাদের চিত্রিত করা হচ্ছে, যেভাবে দলে দলে মুসলমানেরা ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে, যুদ্ধে জীবন দিচ্ছে, উত্তাল সাগরে প্রান দিচ্ছে শরনার্থিরা তার বিপরীতে অটোয়ার মুসলিম সমাজ একটি বিকল্প ভবিষ্যৎমুখী আয়োজন করে চলেছেন গত কয়েক বছর ধরে।

উদ্দেশ্য গুলি ছিল অটোয়ার সমস্ত মুসলমান প্রতিষ্ঠান গুলি সমবেত ভাবে একটি অনুষ্ঠান করা। যেখানে সপরিবারে একটু ব্যাতিক্রমি দিন কাটাতে পারে। নিজেদের চিনতে ও চিনাতে পারে। এশিয়া আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের ধর্ম ইসলাম হলেও ভাষা, সংস্কৃতি আচরন ভিন্ন। নিজেদের মধ্য বন্ধুত্বের খাতিরে এমন আয়োজন বড় ফল্প্রসু।

নুতন ব্যাবসায়ীদের পন্য বিকিকিনি ও পরিচিতির সুযোগ দেওয়া।

সবচেয়ে জরুরি সপরিবারে এমন কিছু স্বনামধন্য বক্তার বক্তব্য শোনা যা আমাদের অন্তরটাকে অনুপ্রানিত করে, ভাবতে শেখায়, দেখতে শেখায়, ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দেয়  জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে গাইড করে। আমাদের আধ্যাতিক বোধের বোধগোম্য ব্যাখ্যা আমরা পেতে পারি। আমরা চাই বা না চাই , আমাদের ছেলেপিলেরা স্কুলে গিয়ে  মুসলিম হিসেবেই পরিচিত হয়, আর সারা বিশ্বে সন্ত্রাস আর মুসলমান একাকার হয়ে গেছে মিডিয়ার অপপ্রচারে।

একারনে ভবিষ্যৎমুখী এ কনফারেন্স খুব গুরুত্বপুর্ন আমাদের তরুন প্রযন্মের জন্য। এবং তারাও স্বতঃস্ফুর্ত উচ্ছলতায় অংশ গ্রহণ করেছে। চমৎকার বক্তব্য রেখেছেন সন্মানিত নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। 

আসলে এ সমস্ত কনফারেন্সের বিশাল পরিসরে সুদক্ষ বক্তাদের চমৎকার বক্তব্য  মুসলমানদের আধ্যাত্ববোধ ও জীবনবোধের সীমারেখা যেন অর্থবহ হয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে এই যে নৈরাজ্য, নিরাপত্তাহীনতা,  শুন্যতার বিপরীতে I.LEAD এক ব্যাতিক্রমি ও প্রসংশনিয় উদ্যেগ। আমরা  আগামীতে সকলের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন চাই।

 

 

 

Facebook Comments