শেষের গল্প নাঈমা চৌধুরী:Beginning of the end,Nayeema Chowdhury

506

শেষের গল্প নাঈমা চৌধুরী:Beginning of the end,Nayeema Chowdhury

তোর আমার গল্পটা 

আরেকটু আগে শুরু হলে

কেমন হতো বলতো

বৌচি, কানামাছি, গোল্লাছুট সারাবেলা

আর এক ছুটে বাড়ি থেকে বাড়ি। 

ঝড়ে পড়া কাঁচা আম

গুঁড়ো মরিচ লবণ মেখে

দুজনে ভাগাভাগি

মাগো, ভাবতেই জিভে জল। 

 

নিস্ফলা লিচু গাছটার নিচে

বসত বিয়ের আসর,

তোর পুতুলের সঙ্গে আমার পুতুলের।

সুরকীর মাংসের ঝোল

ফুলপাতার সব্জি

বালির পোলাও আর

কাদামাটির চমচম,

সে কি ভুরিভোজ

এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল

গোল বাঁধল বিদায়ের ক্ষণে

তোর মেয়ে পুতুলটাকে কিছুতেই 

আমার বাড়িতে যেতে দিবি না বলে

তোর সে কি কান্না!

আমিই বা ছাড়ব কেন?

ছেলে পুতুলের মা বলে কথা। 

এই নিয়ে শেষমেষ

পুরো দুঘন্টার জন্য জীবনের আড়ি। 

মা আর মাসির মধ্যস্থতায় 

সমাধান মিলল অবশেষে

ছেলে পুতুল চলল মেয়ের বাড়ি

আর মেয়ে পুতুলটা ছেলের। 

বেচারা পুতুলদের আর সংসার করা হলো না,

তাতে বড় বয়েই গেল

আমাদের মুখে হাসি তো ফুটল?

 

দিয়ে শুরু,

তারপর ফ্রক ছেড়ে কামিজ

স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে কলেজ,

চলতো আমাদের পথচলা।

এক ছাতার নিচে রোদে আধপোড়া

বৃষ্টিতে আধভেজা হয়ে,

কলেজ আর বাড়ি,

কখনো বা একটু এদিকসেদিক

ঘোরাফেরা আর জমপেশ আড্ডা।

তোর আমার চোখে তখন

অন্যরকম ঘোর

নায়ক আবার একই জন। 

হায়কী করি? কী করি

আরে ধুর

পুতুল খেলার বয়স গেছে সেই কবে,

ছাড় দিতে এখন দুজনেই জানি।

অথবা পুতুলের সংসার ভাঙার 

পাপও হতে পারে,

প্রেম করা আর হলো না আমাদের। 

 

তোর আমার গল্পটা 

এমন হলেও পারত

হয় নি। 

আমাদের বন্ধুত্বের রঙ গাঢ় হলো

দশ হাজার নয়শচুরানব্বই 

কিলোমিটারের ব্যবধানে। 

মানসিক নৈকট্যের কাছে 

দূরত্ব কোন ব্যাপার নয়

এটা প্রমাণ করতেই হয়তো

অথবা এমনও হতে পারে

এখন, এই সময়টাতেই তোকে আমার 

সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল বলে। 

 

আমাদের শুরুটা একসাথে হয় নি

তাতে কি?

শেষটা তো এক হতেও পারে।

বৃদ্ধাশ্রমে পাশাপাশি বিছানায়

শুরু হতে পারে আমাদের শেষের গল্প।

তুই শুনাবি তোর শৈশব,

আর আমি শোনাবো আমার।

আমি কানে কম শুনি 

তো তুই চোখে কম দেখিস,

তবু আমাদের গল্প থামে না।

 

বলতো কেমন হয়

যদি শেষের গল্পটা একসাথে লিখি

বল, তুই রাজি

Facebook Comments