ধ্বংসস্তুপ – নাঈমা চৌধুরী Ruins Nayeema Chowdhury

267

ধ্বংসস্তুপ – নাঈমা চৌধুরী  Ruins  Nayeema Chowdhury

প্রাচীর ভেঙে পড়লেই

বুঝে নেয়া যায়

প্রতিরোধ কতটা প্রবল ছিল।

দেয়ালে শ্যাওলা জমে,

ফাঁটলে গজায় পরজীবি উদ্ভিদেরা,

ধ্বংসস্তুপে ফনা তোলে বিষাক্ত সাপ,

আগাছাময় চতুষ্কোণ।

তবু হঠাৎ কিছু ফুল ফুটলে,

বা চেনা কিছু প্রজাপতি

পথ ভুলে উড়ে গেলে,

মনে পড়ে যায় –

এখানে এক সাজানো বাগান ছিল।

 

একদিন এই আঙিনা

শিশু মুখরিত ছিল,

নিশাচর স্বপ্ন আর

সহচরী হাতে হাত ছিল।

হাতপাখা, শীতলপাটি,

সপ্তব্যঞ্জন নিত্য ছিল।

এক জীবনের জন্য যথেষ্ট,

তবু যথেষ্ট ছিল না তা

কোনো কোনো জীবনের কাছে।

নূপুরের রিনিঝিনি তাই

চাপা পড়ে যেত

ঘুঙুরের রুমঝুম শব্দে।

কূলবধূরা তবুও নীরব ছিল,

মৃত মানুষেরা সরব।

নেশাতুর দৃষ্টি কখনো

কি দেখতে পায়

জানালার শার্সিতে অভিমানী মুখ?

অন্ধকার রাত্রিতে

তারাদের জলসা দেখে যদি

পূর্ণিমা বলে ভ্রম হয়,

তবে সেই চোখ চাঁদ দেখেনি কখনো।

 

এভাবেই শুরু হয় ক্ষয়,

এভাবেই সব

সাজানো থেকে আগাছাময়,

বর্তমান থেকে অতীত,

এভাবেই সব

আছে থেকে ছিল।

সহসা সেই ধ্বংসস্তুপে

এসে দাঁড়ালে

কেউ বা আক্রান্ত হয়

ক্ষণিক নস্টালজিয়ায়।

আবার কেউ কেউ,

স্মৃতিকাতরতা যাদের

হৃদয়ে স্থান পায়নি কখনও,

তারা দেখে সুযোগ,

ভোগ দখলের।

ধ্বংসস্তুপে পা রেখে তারা

পরিকল্পনা কষে ভবিষ্যতের

আর সুখটানে তৈরি করে

ধোঁয়ার গোলক।

 

তবু, তারপরও

কিছু প্রশ্ন থেকে যায়,

সবাই কি পারে সুযোগকে

সম্ভাবনায় পরিণত করতে?

ধ্বংসস্তুপ দেখেও যদি

অতীত না দেখতে পায় কেউ,

ভাঙন দেখেও রক্তক্ষরণ

যদি না হয় কারো হৃদয়ে,

তবে তারা সত্যি কি কিছু গড়তে পারে?

পারে না।

সৃষ্টির জন্য স্বপ্নচারী হতে হয়।

বাকীরা শুধু রেখে যায় –

ধ্বংসস্তুপ।

 

 

Facebook Comments