Immigrant Diary (Time of Revival) Asma Khan ইমিগ্রান্ট কড়চা, (জাগরণের কাল) আসমা খান

623

Immigrant Diary (Time of Revival) Asma Khan

 ইমিগ্রান্ট কড়চা, (জাগরণের কাল) আসমা খান

আজ থেকে বাইশ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যর আরাম হারাম করে অটোয়া আসার পরে প্রথমেই বড় ধাক্কা তীব্র শীত। তারপর পাঁচমিশালী সামাজিকতা। তখন অটোয়া ছিল ছোট খাটো ছিম ছাম সফিস্টেকেট শহর। মানুষতো নিজ দেশী, ভাষা ভাষীর দিকেই যায়। তো তখন দেশী লোকজন এত গম গম করতো না পথে ঘাটে পাড়ায় পাড়ায়। তখনকার মান্য গন্য দেশী অনেকেই স্বসন্মানে এখানে চাকরিজীবী; হাই-টেকে, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে অথবা ইউনিভার্সিটিতে। তাঁদের এদেশী ডিগ্রী, প্রজ্ঞা, রুচি, পেশাগত অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক অবস্থান যে জীবন দর্শন ও আচরনের সেক্যুলার সামাজিক সংস্কৃতি তৈরী করতে সমর্থ হয়েছিলেন, যেটা নবাগতরা অনায়াসে অনুসরন করেছিল। সেটা ছিল নিজেদের উৎসব, কৃষ্টি দায় সারা ঘরোয়া ভাবে দল উপদলে উদযাপন করা। বলা বাহুল্য তখন দেশজঃ পন্য অত সুলভও ছিল না। কানাডার ইমিগ্রেশন আইন কিছু শিথিল করার ফলে দলে দলে বাংলাদেশীরা এদেশে আসতে লাগলেন।

নাইন ইলেলেভেনের পর সন্ত্রাসীর জাত ভাই এর পরিচয়ে যখন পশ্চিমের তাবত মুসলমানের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল, তখন সেই পরিচয় শুন্যতার সময় নিজেদের অসহায়ত্বকে বুঝতে পেরে, আত্বরক্ষার জন্য তাঁরা প্রান পণ সচেতন চেষ্টা করেছিলেন।  দুরর্দশী সমাজ নেতাগন ঐক্যবদ্ধ ভাবে সেটা সমাধানে সচেস্ট হয়েছিলেন। বুঝেছিলেন জীবনে আত্ববিস্মৃতির মত হটকারিতা আর কিছু নেই। ধর্মীয় উৎসবকে সামাজিক জীবনে প্রকাশ্য পুনর্বাসন করে সোৎসাহে উদাযাপন করে নুতন এক সম্ভাবনার সূচনা করেছিলেন। অনেকটা রেনেঁসার মত! ইসলাম যেহেতু এশিয়া ও আফ্রিকার বিশাল অঞ্চলের ধর্ম, সামাজিক বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্যর মাঝে সমন্বয় করে সামাজিক সংস্কৃতিকে এক প্লাটফর্মে আনার জন্য প্রজ্ঞা, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, আর  ঘরে বাইরে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। কারন তখন অটোয়ার মুসলমানন্দের দুই ঠ্যাং দুই মুলুকে ছিল। অটোয়াতে আমার স্বামী তখন নরটেল নেটওয়ার্কে ব্রাজিল ও বেইজিং এর সাথে কাজ করছিলেন ‘ব্রিজ টেকনোলজী’র মাধ্যমে মিটিং করতেন, তো তিনি অটোয়ার মসজিদ গুলোর সন্মানিত প্রেসিডেন্টদের সাথে রমজানের ও শাওয়ালের নুতন চাঁদের খবরের তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য ঐ ‘ব্রিজ টেকনোলজি’ ব্যাবহার করে ঐক্যমতে পৌছাতে বেশ বিরোধিতার মুখেই পড়েছিলেন, টেকনোলজী ব্যাবহারের জন্য! অটোয়াতে একই দিনে সবাই রোজা শুরু করা ও একই সাথে ঈদ উদযাপন আমাদের দ্বিতীয় প্রযন্মের জন্য নিঃসন্দেহে শুভ সুচনা। ছোট সোনাদের স্কুলের বন্ধদের উৎসব গুলি ইস্টার, খ্রীস্টমাস তো বটেই, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবেও এমন গ্যাঞ্জাম হয়না। ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় সংস্কৃতির সাথে ও ভাষা বৈচিত্রের সাথে একই ধর্মীয় আচরনকে ঘুটে ঘোল বানিয়ে ফতোয়াবাজির দরকার নেই, দরকার অটোয়ার সামাজিক প্লাটফর্মে নিজেদের ঐক্য, এবং অন্য জাতের সাথে আপোষ, বন্ধুত্ব, সহনশীলতা।

তো জাগরনের কালে সমাজের সৃজনশীল ও সংবেদনশীল স্তর সামনে চলে আসে। স্বপ্ন ছোঁয়ার আশা আকাংখা চলে আসে, সমাজ উদ্দীপিত হয়। গত দশ পনের বছরে অটোয়া চোখের সামনে দেখতে দেখতে  কলেবরে প্রায় চার গুন বড় হয়ে গিয়েছে, বহু জাত মানুষের মাঝে মুসলমানেরা তাদের জীবন দর্শন নিয়েও তাল মিলিয়ে চলতে শুরু করেছে। এখানে ধর্ম পালনে কেউ বাঁধা দিচ্ছে না, এমনকি হাইস্কুলেও জুম্মার নামাজের ব্যাবস্থা আছে। ‘হালাল’ খাবার এখন অতি সুলভ, হিজাব পড়া প্রচুর মহিলাকে দেখা যায় পথে ঘাটে, অফিস আদালতে। এই বেলা তারা রাজনীতি সচেতন হয়ে ইলেকশন ক্যাম্পেনে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেছেন। এমনকি বেশ কয়েকটি মসজিদে ইলেকশনের আগে ক্যান্ডিডেটদের ডিবেটের আয়োজনে স্বতস্ফুর্ত বিশাল জনতার সমাবেশে রাজনীতিবীদগন গুরুত্বের সাথেই নিয়েছেন। নির্বাচিত হয়ে আপনজনের মত তাঁরা পাশে এসে দাড়িয়েছেন উৎসব আয়োজনে। উল্লেখযোগ্য খবর গত ইলেকশনে নয় জন মুসলমান এম পি, মন্ত্রী হওয়ার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। ’১৬ সালে খোদ পার্লিয়ামেন্ট হিলেই কানাডার ৬০০ সন্মানিত মুসলমানকে ইফতার ও ডিনারে আপ্যায়িত করা হয়েছে।

এদেশে যখন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়তে সচেস্ট হয়েছেন। SNMC এর চ্যারিটি স্ট্যাটাসের আবেদনের সময় তখন  তিনি দেখেন কানাডাতে তিনটি ধারায় আবেদন করা যায়ঃ ধর্ম, শিক্ষা, আর দরিদ্রকে সাহাজ্য করা। তিনি তিনটির জন্যই আবেদন করেন। জাকাত ও সাদাকার জন্য আলাদা একাউন্ট থাকায় শুরু থেকেই SNMC তে জনহিতকর কাজগুলি করা সহজ হয়েছিল। স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে স্কলারশিপ দেয়া, ফুড ব্যাঙ্কে অর্থ ও খাবার সাহায্য দেয়া, কয়েক মন টাটকা কোরবানির মাংস দান করা, হাস্পাতালে অর্থ দান করা, কানাডার ফরেস্ট ফায়ারে বা পৃথিবীর যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ প্রতিষ্ঠানের জনসেবায় অগ্রনী ভুমিকা সত্যি প্রশংসনীয়।

দৃষ্টিনন্দন SNMC এর আধুনিক নির্মান শৈলীর বৈশিষ্ট লক্ষনীয়; ব্যাস্ত নামী এক সড়কের ঠিক পাশেই মসজিদের নাম ঠিকানা লেখা, ছেলে ও মেয়েদের দরজা পাশাপাশি। মসজিদের লাগোয়া কমিউনিটি হল চারটি বিশাল দরজা দিয়ে যুক্ত যেটা জুম্মা, তারাবী, ঈদের নামাজ বা  বিশেষ কারনে বিশাল জন সমাগমে দরজা খুলে মসজিদের এক্সটেনশন হিসেবে, এবং বাকী সময় এটা মাল্টি-পারপাস, ব্যাংকয়েট বা স্পোর্টস হল হিসেবে ব্যাবহার করা। সামনের রাস্তা নয়, বরং নামাজের কেবলার সমান্ত্রালে বিল্ডিং বানানোর ফলে দেয়ালের এমাথা থেকে ওমাথা কাতার একদম সোজা! নীচের বেসমেন্টে চারটি ক্লাসরুমে French as second language স্কুল বোর্ডের অধীনে উপচে পড়া ক্লাসরুম। পাশের ফ্রেঞ্চ স্কুলে SNMC Weekend School ছেলেপিলেদের মাতৃ ভাষা আর ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। জুম্মার দিন, ঈদের দিন ছাড়া উইক ডে তে স্কুল তাদের অতিরিক্ত গাড়ি পার্ক করে আমাদের পার্কিং লটে, এবং আমরা তারাবীতে, ঈদ যদি উইক এন্ডে হয়, তবে স্কুলের অতিরিক্ত পার্কিং লটও স্বচ্ছন্দে ব্যাবহার করি। সামনের ফার্মবয়ে জমজমাট বিকি কিনি!!

I.LEAD (Islam, Learn, Engage, Achieve, Develop) Conference অটোয়াতে এক নুতন দিগন্তের দ্বার খুলেছে।  মুসলমানদের সামাজিক বিকাশের এ এক সফল পদক্ষেপ। অধিকাংশ মসজিদের সন্মিলিত তত্বায়বধানে বিশাল পরিসরে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সপরিবারে সমান উপভোগ্য অনুষ্ঠান মালায় চমকিত করে চলেছে গত পাঁচ বছর ধরে। ভিন শহর থেকে আগত স্বনামধন্য বক্তা গন দ্বিতীয় প্রযন্মের ছেলে পিলেদের স্বপ্ন ছোঁয়ায় অনুপ্রানিত করছেন। তাদের লুকিয়ে থাকা আকাংখাকে মনের অতলে সুপ্ত বা ঘুমিয়ে থাকা মহৎ বা বড় হওয়ার বাসনা্র পালে হাওয়া দিয়ে মুগ্ধ ও বিস্মিত করে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করছেন। বিভিন্ন মাননীয় সরকার প্রতিনিধি প্রাজ্ঞ রাজ প্রতিনীধি গনের উপস্থিতি্র গুরুত্ব অসীম, তাঁরা সাগ্রহে এ কনফারেন্সে এসে চমৎকার বক্তৃতায় শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন, অনুপ্রানীত করেন। দক্ষিন পুর্ব এশিয়া, আরব, এবং আফ্রিকার বিশাল পটভূমির নানা বর্ণ ও ভাষার বৈচিত্রময় অধিবাসীদের মিলন মেলায় প্রকৃত অর্থেই অটোয়াতে এ কনফারেন্স অত্যান্ত সফল বর্ণাঢ্য সংযোজন।

“Expressions of Muslim Women” (EMW) ‘০৮ সাল থেকে তাদের সৃজনশীল অনুষ্ঠান গুলি দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলছেন সেন্টার পয়েন্ট থিয়েটারে। স্বরচিত কবিতার আবৃতি, একাংকিকা, গান, কোরাস, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে সূরের মুর্ছনা সত্যি প্রশংসার দাবী রাখে।

এ শতকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা রাশিয়া আর কতটা সরাসরি যুদ্ধে মুসলমানদের মারছে, তাদের উস্কানিতে মুসলমানেরা নিজেরাই নিজেদের জাত ভাইদের মেরে, বাড়ি ঘর ভেঙ্গে ভিটে ছাড়া দেশ ছাড়া করে রেকর্ড গড়ছে! সেই যুদ্ধ বিদ্ধস্ত এলাকায় HCI, Islamic Relief, IDRF মানব সেবার উজ্জ্বল দৃস্টান্ত রেখেছে। গেল বছর বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরনার্থী দের সাহায্যও তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

CBET  অটোয়া এবং বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে মেধাবী কিন্তু আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত ছাত্র ছাত্রিদের স্কলারশীপ দেয়। এ বছর পাঁচ শত ডলার করে পাঁচটি হাইস্কুলে পাঁচটি, আল গনকুইন কলেজে একটি আট শত ডলারের একটি অটোয়া এবং কার্লন্টন ভার্সিটিতে এক হাজার ডলারের একটি করে বৃত্তি দিয়েছে। বাংলাদেশে শুরু থেকে এ যাবত দশ হাজার টাকা করে প্রায় সাত শত বৃত্তি দিয়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিকুলতায় যে কোন মেধাবী তরুণের জীবন যুদ্ধটা বেশ দুর্গম আর কষ্টের হয়, যদিও তাদের জীবনে সফল হবার ইচ্ছেটা খোদাই করা থাকে। একমাত্র উচ্চ শিক্ষাই তাকে সে স্বপ্ন জয়ের সম্ভাবনা দেয়। প্রতিটি বৃত্তিই বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে একটা জীবনকে বদলে দেয়ার মজবুত সোপান। এ প্রতিষ্ঠান অটোয়ায় সৃজনশীল অনুষ্ঠান করেও সাড়া ফেলেছে। উল্লেখ যোগ্য অনুষ্ঠাঙ্গুলি পিঠা উৎসব, প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক, ইয়ুথ কনফারেন্স। এদেশে আসার আগে অধিকাংশ ভাবী এবং আপা একটা কুটো ভেঙ্গে দূটো করেনি, কিন্ত তারাই কি চমৎকার রাধঁতে রাধঁতে রাঁধুনিই শুধু নন, বাংলাদেশের অনন্য ঐতিহ্য পিঠে বানানোতেও এমন নিপুণ পারদর্শী হয়ে গেলেন তাদের জন্য গর্বে বুক ভরে যায়! Youth quake!!! আমাদের তরুণেরা সত্যি শক্তিশালী তথ্য, বক্তব্য‌ বাচনভঙ্গিতে প্রায় আড়াই শত দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে বোধকে রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে!! নবীন পেশাজীবিগন তাদের পেশাগত দক্ষতায় ছোট খাটো ‘টিপস’ শেয়ার করলেন নবাগতদের সাথে। প্রাণোচ্ছল এ সকল অনুষ্ঠান সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

নাইন ইলেভেন কতিপয় হটকারী হাইজ্যাকার এশিয়া, আফ্রিকার প্রায় পুরো দুই মহাদেশের নিরাপরাধ নিরস্ত্র অসহায় মানুষকে বিশ্বের সবচেয়ে সুশিক্ষিত অস্ত্র সজ্জিত যোদ্ধাদের, অত্যাধুনিক সমৃদ্ধ আর ক্রুদ্ধ এবং যুদ্ধ বাজ এক রাষ্ট্র প্রধানের সামনে মুখোমুখি দাড় করিয়ে ছিল। ভয়, বিভেদ, ঘৃনা, অপবাদ, অপপ্রচারে পশ্চিমে বসত করা শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের পরিচয়ে সন্ত্রাসীর ছাপ দিতে মিডিয়া যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছিল, পশ্চিমের জন জীবন থেকে ইসলাম ধর্ম নির্বাসনে যাওয়ার কথা! কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। দুঃসময়ে ধর্ম মানুষের অন্তরস্থ হাহাকারকে প্রশমিত করে। সমাজে যেকোন বড়, খরুচে মাঙ্গলিক কাজের আহব্বানে ধর্মের ছাতার নীচে ভিন্ন ভাষা ও জাতী গোষ্ঠী শান্তিপুর্ন সহ অবস্থান ও সহযোগিতা সম্ভব। SNMC এর নির্মান তার প্রমান। শুরু থেকে এ মসজিদ বারহেভেনের সামাজিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে চলছে, অনুপ্রানীত করে চলেছে সামাজিক সহ অবস্থানে, জীবন যাপনের একাত্বতায়।  সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অটোয়ার বিভিন্ন স্কুল ‘ইসলাম ধর্মও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে জানার’ জন্য শিক্ষা সফরে ভিজিট করতে এ মসজিদে দল বেঁধে দেখতে ও জানতে আসছে।  একদা নির্জন জংলা এলাকা আজ ভীষন রকম প্রান চঞ্চল, বর্নাঢ্য আর বৈচিত্রে ভরপুর বিশাল এক টাউন শীপ। যে কোন সামাজিক বিন্নাসে ব্যাক্তি মানুষের মনের অতলে চিরন্তন জিজ্ঞাসা, উপলব্ধি, লক্ষ্য, অন্যদের সাথে মিলিয়ে চলার নৈতিক প্রেরণার উৎস হিসেবে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমাজকে সামনে এগিয়ে নেয়ায় ‘পরশ পাথরের’ ভূমিকা পালন করে।

Facebook Comments