প্রগতির জন্য পরিবর্তন, আসমা খান, Change for Progress & Advancement, Asma Khan

1294

প্রগতির জন্য পরিবর্তন, আসমা খান, Change for  Progress & Advancement, Asma Khan

‘জীবনটা গোলাপ শয্যা নয়’।, পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা হাতের লেখায় শুধু মকসো করি নি, আমাদের সময়ে সেই স্কুল বেলাতেই পন্ডিত স্যারেরা মাথায় পেড়েক ঠুকে বুঝিয়ে দিতেন সেটা। আর ঘরে মায়েদের স্নেহের চেয়ে শাষন ছিল ঢেড় বেশী। ফলে তখন ছেলে পুলেরা বানের জলে ভেসে যেতে পারতো না খুব বেশী দূর। আর যাঁরা গ্রাম থেকে সেই আমলে উচ্চ শিক্ষার সর্বোচ্চ সোপান অতিক্রম করেছেন, তাদের রীতিমত সামাজিক পুলছিরাত পার হতে হয়েছে শিক্ষা সময়টা যা তাঁদেরকে পরবর্তিতে ত্যাগ এবং ধৈর্য্য আলোকিত মানুষে রূপান্তরিত করেছে।

ভাষার ব্যাকারন আর সামাজিক ব্যাকারন এক নয়, মানুষের জীবনের বাঁক বদল বড় বিস্ময় বটে। বহু কালের চেনা জনেরা যখন দল বেঁধে বৈরী আচরন করে, দাবানলের মত গুজব ছড়িয়ে দেয়, তখন কি হয়?? কি আর হয়?? জীবনে একটা নুতন অভিজ্ঞতা হয়। যদিও ‘কথায় চিড়ে ভেজে না’, কিন্ত হুজুগে মানুষ বানানো কথা শোনে ভালো! তো সব সময়ই গুজব ছড়ানোই হয় এভাবে যাতে সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে! মন ভাঙ্গে?

আমাদের মায়েরা উপদেশ দিতেন ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে উড়ন্ত চিলের পিছনে না ছুটে, নিজের কানে হাত দিয়ে দেখো কানটা জায়গা মতই আছে’। হটকারী সময়ে আঘাতটা যত বড় নির্মম, নিষ্ঠুর, হৃদয় বিদারক হোক না কেন, নিজেকে বোঝাই এমন সময়তো কতবারই হানা দিয়েছে! যাক!! বসন্ত এসে গেছে প্রায় নীরবে, বুক ভরে ঠান্ডা বাতাশ টেনে নেই, দেহ মনের, ঘর দোর, ঘাস বাগানের সাফ সুতোরো করে জঞ্জাল দূর করিতো পয়লা।

শুরুতেই আমাদের গাড়ি নিয়ে পড়লাম, আট বছরের পুরনো, কিন্ত এখনো গায়ে চেকনাই আছে, ইঞ্জিনের স্বাস্থ্য খুব ভালো, দৌড়ের মাইল ফলক জানান দিচ্ছে এখনই সময়, দেরীতে ঝপ করে দাম পড়ে যাবে। তো গাড়ি কিনতে গিয়ে আমার স্বামী পেয়ে গেলেন তাঁর পুরোন দিনের সহকর্মীকে যিনি নরটেল নেটওয়ার্কে চাকরী হারিয়ে হোন্ডাতে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ। গল্প গাছা করে গাড়ির অর্ডার দিয়ে পয়সা কড়ির হিসেব নিকেশে অভিজ্ঞ স্বামী বসলেন আর এ ব্যাপারে তিনি তাঁর পিছনের হাতী যেমন দেখতে চান তেমনি সামনে দিয়ে পিঁপড়ে হেঁটে গেলেও নজর করে দেখেন, আর শুধু তাই না, ‘এক পয়সার তৈল কোথায় খরচ হৈল?’ রীতিমত রান্নার হাড়ি, তেলের বোতলের খবরও আন্দাজ করেন বৈকি। ঐ সব হিসেবের ঝুট ঝামেলা তাঁর কাছে দিয়ে আমি ঝাড়া হাত পা বহু দিন ধরেই।

আনকোড়া নুতন গাড়ি, যদিও একই ব্যান্ড হোন্ডা সিআরভি শুধু রঙ টা ভিন্ন, কিন্ত গাড়িতে উঠে চমকে গেলাম, ভিতরের সাজ পোষাক, তথ্য প্রযুক্তি, উড়েব্বাস!! পকেটের চাবি পকেটেই থাকলো, বুড়ো আঙ্গুলের টিপছাপেই গাড়ি চালু হয়ে গেল। আহা ঠান্ডা পিঠে উষ্ণতার স্পর্ষ। বড় কুন্ঠিত বিষ্ময়ে আর অপার কৌতুহলে দেখে শুনে ধীরে সুস্থে বাড়ি এলাম। আট বছরের ব্যবধানে একই গাড়ির এ রূপান্তর প্রগতির চলমান ঝকমকে চেহারাটা সামনে এনে দিল।

তো আমার উপলব্ধিতে হানা দিল যিনি গত একুশ বছরের চেষ্টায়, এবং ’১১ সালে থেকে ফুল টাইম স্বেচ্ছা শ্রমে অগুনতি মানুষের অকুন্ঠ বিশ্বাস ও অর্থায়নে যে সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নেতা বৃন্দের অনুরোধ সত্বেও তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন, কেন?? যাতে নূতন নেতৃত্ব এসে, নূতন আইডিয়া এ প্রতিষ্ঠানকে উচ্চতর সোপানে নিয়ে যেতে পারেন।

বাস্তব সত্য হচ্ছে যাঁরা স্বেচ্ছা শ্রমে এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন, এবং যাঁদের জন্য করবেন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সেবা গ্রহণ করতে হবে, যেমন পকেটে চাবি সহ গাড়িতে বসে হাতের টিপ ছাপ দিয়ে সবাইকে নিয়ে গন্তব্য পৌছানো সম্ভব!

 

 

Facebook Comments