তওবা ও তওবার উপকারীতা:মোসলেম উদ্দীন Benefits of Seeking Forgiveness, Enginer Moslem Uddin, Ottawa

946

Benefits of Seeking Forgiveness from God, Enginer Moslem Uddin, Ottawa

তওবা ও তওবার উপকারীতা:মোসলেম উদ্দীন

তওবা কি?

খারাপ কাজ-গুনাহ, পাপচার, অন্যায় অবিচার ও আল্লাহর নাফরমানি হতে ফিরে এসে, বান্দা নেক কাজ করার মাধ্যমে তার প্রভুর দিকে ফিরে আসাকে তাওবা বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা তওবা কারীদের অত্যন্ত ভালবাসেন। বান্দা যখন তার অপরাধের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন। আল্লাহ তওবাকারীকে  অত্যধিক পছন্দ করেন, তার তাওবা কবুল করেন এবং তাওবার মাধ্যমে বান্দাকে পবিত্র করেন।

তওবার উপকারিতা:

১.  তওবার মাধ্যমে আল্লাহ এবং আল্লাহর রসূলের নির্দেশ পালন করা হয়:

আল্লাহ তা’আলা নিজেই মুমিনদেরকে তাওবা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন-

“হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে তাওবা [প্রত্যাবর্তন] কর, নিশ্চয় তোমরা সফলকাম হবে”। [সূরা নূর আয়াত: ৩১]  অর্থাৎ  তওবা  করা মানে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বলেন, ‘ইয়া আইয়্যুহান নাসু তুবু ইলাল্লাহি’ অর্থাৎ হে মানব সব! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো- আল্লাহর নিকট ফিরে আসো, প্রত্যাবর্তন করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭০৩৪)।

 

২.  তওবার মাধ্যমে  আল্লাহর রসূলের অনুসরণ করা হয়:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  দিনে একশ বার তওবা করতেন।  তওবার দ্বারা

আল্লাহর রসূলের অনুসরণ করা হয়। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণের মাধ্যমেই আল্লাহর ভালবাসা অর্জন করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন,

“হে নবী,আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো তবে আমার অনুসরণ কর তবে আল্লাহ ও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন।” (সূরা আলে ইমরান: ৩১)

৩.   তাওবা দ্বারা গুনাহ মাফ হয়ে যায়ঃ

মহান আল্লাহ বলেন,“হে নবী,আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাসো তবে আমার অনুসরণ কর তবে আল্লাহ ও তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন।” (সূরা আলে ইমরান: ৩১)

 . তাওবা দ্বারা আল্লাহর ভালো বাসা ও মহব্বত লাভ হয়:

আল্লাহ তা’আলা তাওবাকারীকে মহব্বত করেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে”।

. দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জন: তাওবা দ্বারা একজন বান্দা দুনিয়া ও আখেরাতে সফলকাম হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন,

“হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার”।

৬.  গুনাহগুলোকে নেকী দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়া হয়:

আল্লাহ তায়ালা বলেন,“তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু”।

৭. তাওবা দ্বারা জান্নাত লাভ হয়:

তাওবা জান্নাতে প্রবেশের কারণ হয়। আল্লাহ তা’আলা তাওবাকারীদের গুনাহ ক্ষমা করবেন এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত”।

৮.  দুনিয়াতে উত্তম জীবন উপকরণ ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদান লাভ হয়:

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে করীমে এরশাদ করেন-

“আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তার কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দেবেন এবং প্রত্যেক আনুগত্যশীলকে তাঁর আনুগত্য মুতাবিক দান করবেন”।

৯. আসমান থেকে সময়মত বৃষ্টি ও তোমাদের শক্তি দান করবেন:

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে হুদ আ. এর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, হুদ তার সম্প্রদায়ের লোকদের বলছিল, “হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও অতঃপর তার কাছে তাওবা কর, তাহলে তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি পাঠাবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরো শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে বিমুখ হয়ো না”।

১০. দু’আ কবুল হয়:

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে সালেহ আ. এর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সালেহ তার সম্প্রদায়ের লোকদের বলছিল,

আর সামূদ জাতির প্রতি (পাঠিয়েছিলাম) তাদের ভাই সালিহকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আবাদের ব্যবস্থা করেছেন । সুতরাং তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, অতঃপর তাঁরই কাছে তাওবা কর। নিশ্চয় আমার রব নিকটে, সাড়াদানকারী’।

১১. তাওবার দ্বারা যাবতীয় বলা-মুসিবত ও আল্লাহর আযাব দূর হয়:

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-আর আল্লাহ এমন নন যে, তাদেরকে আযাব দেবেন এ অবস্থায় যে, তুমি তাদের মাঝে বিদ্যমান এবং আল্লাহ তাদেরকে আযাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে।

১২তাওবার দ্বারা পেরেশানি দূর হয়, বিপদ থেকে মুক্ত পায় এবং রিযিক বৃদ্ধি পায়:

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. হতে হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. এরশাদ করেন “যে ব্যক্তি বেশি বেশি করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থণা করে, আল্লাহ তা’আলা তার সমস্ত পেরেশানীকে দূর করে দেয়, সকল বিপদ থেকে উদ্ধার করে এবং তাকে তার ধারণাতীত রিযিক দান করে”।

 

Facebook Comments