তাওবা ও ইস্তেগফারের পার্থক্য (পর্ব-১): মোসলেম উদ্দীন, Seeking frogiveness and Repentance, Engineer Moslem Uddin Ottawa

3011

তাওবা ও ইস্তেগফারের পার্থক্য (পর্ব-১):  মোসলেম উদ্দীন

কোন গুনাহ  বা অপরাধ মূলক কাজ বা কোনো ভুলত্রুটিই  হয়ে থাকলে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হয়।

তওবা ও  ইস্তেগফার কি? এদের মধ্যে কি  কোনো পার্থক্য আছে? নাকি দুটিই  একই কিন্ত ভিন্ন নাম?

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া দুটি উপায় আছে: তার একটি হল  তওবা ও অপরটি হল ইস্তেগফার।দুটিই আল্লাহর কাছে  মাফ চাওয়ার উপায় হলেও  এদের মধ্যে সামান্য পার্থক্য আছে।

তাওবা এর অর্থ হচ্ছে- অনুতপ্ত হওয়া, ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা। সুতরাং, গুনাহ করার পর অনুতপ্ত ও লজ্জিত  হয়ে আল্লাহর কাছে অনুনয় ও বিনয় সহকারে মাফ চাওয়া ও উক্ত গুনাহের কাজ বর্জন ও তা পূণরায় না করার দৃঢ় অঙ্গিকার করাকে তাওবা বলে।

অপরদিকে ইস্তিগফার মানে হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা। ইসতিগফার -আস্তাগফিরুল্লাহ বলার অর্থ ক্ষমা চাওয়া।  ইস্তেগফারের মর্ম হলো- আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফ করার দু’আ করা। দুনিয়াতে গোনাহ ও অপকর্মগুলো প্রকাশ না করার দরখাস্ত করা। আর আখিরাতে এসব বিষয়ে হিসাব না নেওয়ার দু’আ করা।

অর্থাৎ, এটা স্পষ্ট যে তওবার ভিতরেই ইস্তেগফার বিদ্যমান। ইসতিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা, তাওবা বা ফিরে আসার একটি অংশ। অতএব, ইস্তেগফারের যে ফজিলত তওবার ও সেই ফজিলত। কোরআন ও হাদিসে তওবার যে সমস্ত বাক্য আছে , সেই একই বাক্য  ইস্তেগফারের জন্য পড়া যায়। তওবার ভিতর মাফ চাওয়া ছাড়া অন্তরের অনুশোচনা ও পাপ পুনরাবৃত্তি না করার আন্তরিক অঙ্গীকার অতিরিক্ত।

 

কবিরা বা বড় ধরনের গুনাহ মাফের জন্য তওবা জরুরী। তওবা ব্যাতিরেকে কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। যেমন শিরক করা ইসলামে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ। কেউ যদি শিরক করার পর তওবা না করে এবং শিরক করা থেকে বিরত না থেকে তবে আল্লাহ সেই গুনাহ কখনই ক্ষমা করবেন না।  এ ছাড়া আল্লাহ যে কোনো গুনাহ মাফ করতে পারেন। যে তওবার পর পাপকর্মের পুনরাবৃত্তি হয় না, তাকে বলে তওবাতুন নাসুহা বা খাঁটি তওবা।

তাওবার মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ের উপস্থিতি  একান্ত  জরুরি। নতুবা তওবা সম্পুর্ন হয় না।

১. পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া , লজ্জিত হওয়া ও অনুশোচনা করা,

২. পাপ পরিত্যাগ করা  বা গুনাহর কাজ  ছেড়ে দেওয়া এবং

৩. ভবিষ্যতে  আর কখনো পাপ না করার আন্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ও আল্লাহর কাছে  আন্তরিক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।

৪. আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সমর্পণ করা

৫.   মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া

সুতরাং,  তাওবার  ভিতর  অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ-    তিনটি কালের সাথে সম্পর্ক বিদ্যমান:

১.  অতীতের  সাথে কৃত পাপের  লজ্জিত হওয়ার সম্পর্ক।

২.  বর্তমানের সাথে গুনাহর কাজ  ছেড়ে দেওয়ার সম্পর্ক।

৩.  ভবিষ্যতের সাথে গোনাহ না করার অঙ্গীকারের সম্পর্ক।

যদি কোনো ব্যক্তি তার কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত না হয় বা তা পরিত্যাগের ইচ্ছা না করে, তাহলে  তার মৌখিক তওবা উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। মৌখিক তওবা প্রকৃত তওবা নয়। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া তাওবার একটি প্রকাশ।

তবে তওবার শর্ত পূরণ ছাড়া শুধু ইসতিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াতে পরিপূর্ণ তাওবা হয় না। কেউ যদি তওবার শর্ত পূরণ না করে শুধু মুখে বলে ‘আমি তাওবা করছি’ তাহলে তা একটি মিথ্যাচার।

Facebook Comments