অটোয়ায় ফান্ডরেইজিং ডিনার, আসমা খান, Ottawa Fund Raising Dinner, Asma Khan

530

অটোয়ায় ফান্ডরাইজিং ডিনার, আসমা খান, Ottawa Fund Raising Dinner, Asma Khan

একেবারে স্কার্চ থেকে গড়ে তোলা দু’ দুটো সফল কানাডিয়ান রেজিষ্টার্ড চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান অটোয়ার বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট সমাজের গতানুগতিক ব্যাকারনের গন্ডি ভেঙ্গে সম্পুর্ন নুতন পথে সমাজের মোড় ঘুরিয়েছে মৌলিক ও গুরুত্বপুর্ন বিষয়কে (?)পাশ কাটিয়ে এবং ব্যাখ্যা না করেই। প্রতিষ্ঠান দুটো হোল SNMC  এবং   CBET। সমাজের দৃস্টিভঙ্গি, সন্মান, আশা, আকাঙ্ক্ষা, কল্পনাকে যখন সফল ও বাস্তবায়িত প্রতিষ্ঠানিক রূপে চোখের সামনে সগৌরবে দণ্ডায়মান, তখন সমঝদারের মতই বাংলাদেশী সমাজ সেই পদচিহ্ন অনুসরনে দারুন আগ্রহি হোল। ফলশ্রুতিতে খোদ অটোয়াতে এই ’১৮ এর নভেম্বরের প্রতি সপ্তাহেই বিভিন্ন  জনহিতকর কাজে বাংলাদেশী ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠান হচ্ছে।

বাইশ বছর ধরে অটোয়াতে আছি, মনে রাখা উচিৎ আমাদের স্থানীয় পরিচয়টাও অশেষ গুরুত্বপুর্ণ। জন্মভূমি এবং বাসভূমির ঐতিহ্য বিশ্বাসকে জীবন দর্পনে এমন চমৎকার ভাবে বিম্বিত করা উচিৎ যে দুরত্বের, ব্যাবধানের সীমারেখাটা মিলেমিশে একাকার ধুষর হয়েও যেন চমক সৃষ্টি করে। এদেশে রেজিষ্টার্ড চ্যারিটিও বড় চটকদার, ঝকমকে। যেকোন কানাডিয়ান চ্যারিটির বাৎসরিক গালা ডিনারে, ব্যাংকোয়েট হলে জেল্লা জৌলুস যেন উপচে পরে। বেশ দাম দিয়ে টিকিট কিনেও অনুষ্ঠানে এসে নামী দামী অতিথীবৃন্দ কার্য-কারন বুঝে চেকে বা ক্রেডিট কার্ডে হাজারে হাজার ডলার দান করতে পারেন। জেনে রাখা ভালো বছর শেষে ট্যাক্স রিটার্নের সময় দাতাকে ঐ দানের ত্রিশ পারসেন্টই কানাডিয়ান সরকার ফেরত দিয়ে দেন।

তো ম্যাজিকটা কি? কানাডার প্রতিষ্ঠিত সামাজিক কাঠামো, আধুনিক নাগরিক মনস্তত্বঃ, প্রযুক্তি, সামর্থ্য, পরিবেশ, দৃস্টিভঙ্গি, ইচ্ছা, সচেতনতা, প্রচার, প্রেরনা, দয়ালু দাতা ইত্যাদি্র সমাহার। একুশ বছর আগে বারহেভেনের এই জংগুলে এলাকায় বাড়ি কিনে যখন বসত করি তখন জংগল সাফ করে করে সদ্য গড়ে উঠছে নুতন এই টাউনশীপ। ভিনদেশীদের সাথে সখ্যতা রেখেই এখানে পাঁচ মিশালী সমাজ গড়ে ওঠে, কিন্ত নিজেদের স্বকীয়তা ধরে রাখাও অত্যান্ত জরুরি। এককথায় বলি এ এলাকায় SNMC (South Nepean Muslim Community) এর সাফল্যর সিক্রেট হচ্ছে এশিয়া আফ্রিকা থেকে আগত ভিন দেশী ভিন্ন ভাষার মুসলমানদের ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রেখেই অন্যান্য দেশের, ভাষার এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বিদের সাথে সুসম্পর্ক। তাই এ প্রতিষ্ঠানের শ্লোগানঃ SNMC belongs to You Me and Us. পরিচয়কে পোক্ত করার জন্য নয় মিলিয়ন ডলারে অত্যান্ত দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা অটোয়ার গুরুত্বপুর্ন রাস্তার পাশে গম্বুজ, মিনার সহ মসজিদ এবং চমৎকার এক মাল্টিপারপাস কমিউনিটি হল, স্ব-নামেই কত ধরনের জনহিতকর কাজ যে করে চলছে!! SNMC কনস্ট্রাকশনের যখন ভরা জোয়ার, একই ব্যাক্তি আর একটা প্রতিষ্ঠান CBET (Canada Bangladesh Education Trust) শুরু করেছিলেন।

CBET কানাডার রেজিষ্টার্ড চ্যারিটি, বিশ্বাস এবং আস্থার পাটাতনে শৃঙ্খলাবদ্ধ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সামর্থ্যবান দয়ালু দাতার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে অটোয়া এবং বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষায় আর্থিক প্রতিকূলে কিন্ত মেধাবীদের এককালীন বৃত্তি প্রদান করে। গত পাঁচ বছরে অটোয়ার বিভিন্ন হাইস্কুলে, কলেজে, ভার্সিটিতে প্রায় পঞ্চাশটা বৃত্তি প্রতিটি গড়ে পাঁচ’শত ডলার করে। বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষায় বিভিন্ন ছাত্র/ ছাত্রিকে এককালিন  আট শত বৃত্তি দেয়া হয়েছে, প্রতিটি দুই শত ডলার করে। আজ সেই CBET এর ফান্ড রেইজিং ডিনারের কথাই হোক। এই উদ্দেশ্য শতাধিক দাতাকে জমায়েত করা, টিকিট বিক্রি করা, অভিজাত হল বুক করা মুখরোচক খাবার, মনোরম স্নিগ্ধ রুচিশীল পরিবেশে ডিনারের আয়োজন করে, সময় মত অনুষ্ঠান শুরু করে দাতাকে দানে উৎসাহিত করেন প্রাজ্ঞ বক্তা। অনুপ্রেরণার কথার পিঠে কথা জুড়ে ভরাট, সুরেলা কন্ঠের ওঠা নামায় অনেকটা আধ্যাত্বিক ইন্দ্রজালের সৃষ্ট করে পুরো অনুষ্ঠানকে সার্থক করে তোলেন। আগেই বলেছি অটোয়ার সামাজিক কাঠামো ও আধুনিক নাগরিক মনস্তত্বঃ এবং সচেতন দয়ালু অতিথিবৃন্দ তেজস্বী বক্তার প্রাজ্ঞ বক্তব্যর সাথে সহমতের রসায়নেই ম্যাজিক ঘটে।  এগারোই নভেম্বরে SNMC এর সু-সজ্জিত ব্যাংকোয়েট হলে এ বছরের ডিনারে মাননীয় অতিথিবৃন্দ প্রায় $২৮০০০ প্লেজ, চেক এবং ক্যাসে দান করেছেন।

দানের সীমারেখা কিভাবে মিলেমিশে একাকার হয়? ‘যাকাত’ আদায় করা আমাদের ধর্মীয় অবশ্য কর্তব্য(ফরজ)। কানাডার রেজিষ্টার্ড চ্যারিটিতে দান করলে সরকারী খাতায় নাম থাকলো, বছর শেষে ট্যাক্স রিটার্নে ত্রিশ পারসেন্ট অর্থ ফেরত পাওয়া সেই অর্থও ফের দান করা সম্ভব, ধর্মীয় ও একান্ত মানবিক অনুভবকে পৌনঃপৌনিক সম্ভাবনার অনন্য অনুভব একজন দাতাকে অন্তত কিছুক্ষনের জন্য হোলেও অনন্যসাধারন করে তোলে। অনুপ্রানিত স্পীচ ছাড়াও দাতাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা দেয়া হয় বিশ্বস্ত তথ্য সমুহ, যেমন কোথায় কয়টা বৃত্তি দেয়া হোল, বৃত্তি পাওয়ার পুর্বশর্ত কি, কিভাবে অটোয়া এবং বাংলাদেশে বৃত্তি দেয়া হয়, কিভাবে অফিসিয়াল চ্যানেলে মুদ্রা অটোয়া থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছে, বাংলাদেশের সরকারের অনুমোদনে সেই অর্থ কিভাবে যোগ্য প্রার্থীর কাছে পৌছায় ইত্যাদি। প্রযুক্তির সার্থক ব্যাবহার ছাড়া এ সফলতা অধরাই থেকে যেত। অনলাইন ডোনেশন, অটোমেটিক ব্যাংক টারমিনাল, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, প্রযেক্টর, হলের জমজমাট পরিবেশ অনুষ্ঠানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

CBET হচ্ছে SNMC এর ছোট বোনের মত। দানের ফসল তোলার জন্য বছর ভর বিভিন্ন সচেতন মুলক সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে হয়। সেসব পোগ্রামও মানুষের মনোযোগ নিয়ে নাড়াচাড়া করেছে এ প্রতিষ্ঠান । সমাজে দশজনের সামনে নিজেদের সন্তান যখন পডিয়ামে দাড়িয়ে মাতৃভুমি আর বাসভুমি সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেযেন্ট করে ‘ম্যাপল সিরাপ’ বনাম ‘খেজুরের রস’, ‘কানাডার পার্লিয়ামেন্ট’ বনাম ‘বাংলাদেশের পার্লিয়ামেন্ট’, অটোয়ার ‘লা মেশিন’ বনাম বানলাদেশের ‘সোফিয়া’, তখন সকলে আভিভুত হয়েছেন। উৎসবে সবান্ধব দেশীয় পিঠা রসনাকে কতটা তৃপ্ত করে? এক ঢিলে কত পাখি মারা পড়ে? এমনকি একেবারে রসকষহীন AGM ও দারুন উপভোগ্য হয়ে ওঠে স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ দের ‘ডাইভারসিটির’ খুটিনাটি তথ্যর সরস বয়া্নে। গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে পাক্ষিক নিউজ লেটার, মাসিক ‘কানাডিয়ান ড্রীম’ নামের দোভাষী ম্যাগাজিন। ইমিগ্রান্ট জীবনের নৈতিক সামাজিক চালচিত্রের আভাষ মেলে সেখানে। রজার্স টিভিতে প্রতি মাসে ‘বাংলাদেশ উইন্ডো’ CBET এর বিভিন্ন পোগ্রাম প্রচার করে থাকে।

পশ্চিম থেকে পুবের সেতু গড়া, ‘ডোনেশনের’ সফল পরিচয় পথ CBET নির্মান করেছে, এত দ্রুত, নির্ভুল, ও যৌক্তিক দক্ষতায়, যা প্রশংসাযোগ্য মাইল ফলক, এবং সেই পদচিহ্ন অনুসরন করাও সম্ভব। যার প্রমান এই নভেম্বরে ফি সপ্তাহেই বাঙলাদেশীদের অন্যান্য চ্যারিটি ডিনার, যদিও শুরুতে তা আর একটি রেজিষ্টার্ড চ্যারিটি HCI এর ব্যানারে এবং পার্টনারশীপে হচ্ছে। দরিদ্র জনসংখ্যায় ভরা, বোঝার উপর শাকের আঁটির মত রোহিঙ্গা রিফিউজি ভারাক্রান্ত বাংলাদেশে যে কোন আর্থিক ডোনেশনই প্রান্তিক মানুষের জীবনে খানিক স্বস্তি দিতে পারে।

CBET অটোয়ায় বাংলাদেশীদের ভবিষ্যৎমুখি একমাত্র  রেজিষ্টার্ড চ্যারিটি এবং  আগাম পথপ্রদর্শক

Facebook Comments