শিরক জঘন্যতম পাপ: মোসলেম উদ্দীন, Shirk, Engineer Moslem Uddin, Ottawa

391

শিরক  জঘন্যতম পাপ: মোসলেম উদ্দীন, Shirk, Engineer Moslem Uddin, Ottawa

মানব ইতিহাসে যত জঘন্যতম পাপ সমূহের আছে শিরক তারমধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম পাপ। শিরকের চেয়ে জঘন্য কোন পাপ নেই।শিরক এক অমার্জনীয় অপরাধ।

অনুশোচনা ও অনুতাপে দগ্ধ বিনম্র তওবা ছাড়া আল্লাহ শিরকের পাপ সহজে মাফ করেন না। শিরকের এর পরিনাম এত খারাপ যে,  শিরকের ভয়বহতা এত বেশি যে, শিরক মানুষের সব আমাল নস্ট করে দেয়,  শিরক মানুষকে ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দেয় , মানুষকে  চিরস্থায়ী জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
“নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আর ইহা ব্যতীত যাকে ইচ্ছা (তার অন্যান্য অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।” (সূরা আন-নিসা ৪: ৪৮)
হাদিসের বর্ণিত আছে “যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কিছু শরিক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে কিছু শরিক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম-৯৩)
আব্দুর রহমান ইবনু আবুবকর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি বললেন, আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় তিনটি পাপের কথা বলব কী? ছাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা’।

শিরক এক অমার্জনীয় অপরাধ। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার নিকট যমীন ভর্তি পাপ নিয়ে আস, আর শিরক মুক্ত অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাৎ কর। তাহলে আমি ঐ যমীন ভর্তি পাপ ক্ষমা করে দিব’।

শিরক আসলে কি?

বিশ্বাসগতভাবে ও আমলগতভাবে অথবা ইবাদতের ক্ষেত্রে অথবা ক্ষমতা বা গুণাবলীর ক্ষেত্রে কোন কিছুকে আল্লাহর সমান  মনে করা অথবা কোনো  কিছুতে আল্লাহর শরীক স্থাপন করার নাম শিরক। মহান আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, ক্ষমতা ও কার্যাবলিতে অন্য কাউকে সমকক্ষ মনে করাই শিরক।

আল্লাহর সাথে শিরক করার অর্থ হল- কোনো কিছুকে  আল্লাহর সমকক্ষ বা সমতুল্য করা , তার নিকট দোয়া করা, মনবাসনা পূরণের জন্য তার কাছে  প্রার্থনা করা, তাকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে তার কাছে  কোন কিছু আশা করা, তাকে  আল্লাহর মত ভয় করা , তার উপর এমন ভরসা করা  যেমন ভরসা আল্লাহর উপর করা হয়, তার নিকট সুপারিশ চাওয়া, তার নিকট বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য ফরিয়াদ করা, কিংবা তার নিকট এমন বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা, যার সমাধান আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারে না, কিংবা আল্লাহর অবাধ্যতা করে তার আনুগত্য করা, তার  নামে যবহ করা,  তার নামে মানত করা, অথবা তাকে আল্লাহর মত ভালবাসা।কোনই কিছুকে আল্লাহর কাছে ইবাদত বা প্রার্থনা পোঁছানোর মাধ্যম করাও  শিরক।

সুতরাং শিরক হতে পারে আল্লাহর নিজ সত্ত্বার সাথে, তাঁর ইবাদাতের সাথে, তাঁর যে কোন গুনবাচক নামের সাথে, তাঁর বিধানের সাথে, তাঁর পছন্দের সাথে, তাঁর সম্মান ও ইজ্জতের সাথে, তাঁর ভালবাসার সাথে, তাঁর আনুগত্যের সাথে, মান্নত করার ক্ষেত্রে, পশু যবেহ করার ক্ষেত্রে ইত্যাদি।

প্রাত্যহিক শিরক:

প্রাত্যহিক কাজে কর্মে, চিন্তাধারায়  জেনে না জেনে আমরা প্রতিনিয়ত শিরক করে যাচ্ছি বা শিরকের মত আচরণ করে যাচ্ছি।অথচ আমরা জানি-ই  না যে ঈমান হারার মত জঘন্য পাপ আমরা অনবরত করছি। যদিও শিরকের মধ্যে ছোট শিরক আছে, বড় শিরক আছে, তবুও শিরক তো শিরক-ই।  শিরক যত ছোট-ই  হোক না কেন, এটা জঘন্যতম পাপ।

প্রাত্যহিক শিরক এর উদাহরণ:

  • আমি আল্লাহ এবং আপনার উপর ভসরা করছি, আল্লাহর পরেই আপনিই আমার একমাত্র ভরসা
  • আল্লাহ এবং আপনি যা চান সেটাই হবে
  • উপরে আল্লাহ নিচে আমি
  • আল্লাহ আর আপনি যদি না থাকতেন তাহলে মহা বিপদ হয়ে যেত
  • আমি আল্লাহর অনুগ্রহে এবং আপনার দোয়ায় ভাল আছি
  • বাসার সামনে কাক ডাকছে – নিশ্চয়  কেউ মারা যাবে।
  • যাত্রার সময় পিছন থেকে ডাকলে কেন? যাত্রা অমঙ্গল হবে
  • এই পোষা কুকুরটি বা বিড়ালটি না হলে আজ রাতে আমার বাড়িতে চোর ঢুকে পড়ত
  • মাঝি বড় দক্ষ ছিল বিধায় আজ জীবন রক্ষা পেল
  • ড্রাইভারের দক্ষতায় বাসটি রক্ষা পেল
  • যাত্রার সময় পেঁচা ডাকলে অমঙ্গল হবে
  • পরীক্ষার আগে ডিম খেলে পরীক্ষায় শূন্য পাবে
  • জোড়া কলা খেলে জমজ বাচ্চা হবে
  • আঙ্গুল দিয়ে লাউ শশা দেখালে ওটা পচে যাবে
  • কাপড় নিগড়ানো পানি পায়ে ফেললে স্বামী মারা যাবে
  • যাত্রার সময় কালো বিড়াল দেখলে যাত্রা অশুভ হবে
  • বাবার কাছে চেয়েছি উনি একটা সন্তান দিবেন

পাশাপাশি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে কসম করা-
মাটি হাতে নিয়ে কসম
খ. বাবা-মার নামে কসম
গ. সন্তান-সন্ততির নামে কসম
ঘ.নবী-রাসূলদের নামে কসম
ঙ. পরহেজগার ব্যক্তির নামে কসম
চ. পবিত্র স্থানের নামে কসম
ছ. খাবার ছুঁয়ে কসম বা কাউকে ছুঁয়ে কসমসহ যাবতীয় কসম।
দুনিয়াবি স্বার্থ লাভের উদ্দেশ্যে, লোক দেখানো ভঙ্গিমায় ইবাদত-বন্দেগিসহ ইত্যাদি বিষয় শিরকে আসগরের অন্তর্ভূক্ত।

Facebook Comments