How to get Dua Accepted During Fasting, Moslem Uddin:রোজার সময় দোয়া কবুলের উপায়, মোসলেম উদ্দীন

154

 How to get Dua Accepted During Fasting, Moslem Uddin

রোজার সময় দোয়া কবুলের উপায়, মোসলেম উদ্দীন

রমাদান দোয়া কবুলের মাস। হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ  সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের প্রতি দিবারাত্রে আল্লাহ তায়ালার দরবার হতে জাহান্নামের কয়েদিদের মুক্তি দেয়া হয় এবং প্রতি দিবারাত্রে প্রত্যেক মুসলমানের একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়।

নবী করিম (সা.) রমজান মাসে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলেছেন, ‘এই মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো,

১. বেশি বেশি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর জিকির করা;

২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৩. জান্নাত চাওয়া,

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।

রোজা অবস্থায় দোয়া কবুল হয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তাঁদের একজন হলেন রোজাদার ব্যক্তি। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ইফতারের আগ পর্যন্ত তাঁর দোয়া কবুল হয়। আরেক বর্ণনায় এসেছে ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। রোজাদার ব্যক্তির উচিত সময়-সুযোগমতো আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা।আমরা নিম্নলিখিত উপায়ে  রমজানে দোয়া কবুলের সুযোগকে কাজে লাগাতে পারি।

আযানের সময় দোয়া করা:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : দুটো সময় এমন যাতে দুআ ফেরত দেয়া হয় না অথবা খুব কম ফেরত দেয়া হয়। আযানের সময়ের দুআ এবং যখন যুদ্ধের জন্য মুজাহিদগণ শক্রের মুখোমুখি হন। (আবু দাউদ)

 আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দোয়া করা:হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া করা হলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (তিরমিজি)

সিজদারত অবস্থায় দোয়া করাফরয, সুন্নত, নফল যেকোনো নামাযের সিজদাতে দুনিয়া বা আখেরাতের যেকোনো কল্যানের জন্য সিজদার তাসবীহগুলো পড়ার পরে দুয়া করা যায়।

রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম অবস্থায় থাকে তা হলো সেজদারত অবস্থা। সুতরাং তোমরা সে সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও বা প্রার্থনা করো।’ (মুসলিম)

রাবীর সময় আমাদের অধিক সংখ্যক সিজদা করার সুযোগ থাকে। প্রতিটি সিজদার সময় আমাদের প্রয়োজনীয় দোয়া করতে পারি।   যেহেতু এটা সিজদার সময়কার দোয়া তাই কবুলের সম্ভাবনা বেশী।

ফরজ সালাতের শেষে দোয়া করা :রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল:

কোন দুআ সবচেয়ে বেশি কবুল করা হয়? তিনি বললেন, শেষ রাতে এবং ফরজ সালাতের শেষে। (তিরমিজী)

জুমআর দিনের শেষ অংশে দোয়া করা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

জুমআর দিন বারটি ঘন্টা। এর মধ্যে এমন একটি সময় আছে, সে সময় একজন মুসলিম বান্দা যা আল্লাহর কাছে চায়, তা-ই তিনি দিয়ে দেন। তোমরা সে সময়টি আছরের পর দিনের দিন অংশে তালাশ কর। (আবু দাউদ, নাসায়ী)


রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দোয়া করা:রাত এমন একটা সময় যখন প্রত্যেকে তার আপনজনের সঙ্গে অবস্থান করে। এ সময় একজন মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীরতর করার সুযোগ গ্রহণ করে থাকে। আর এটা এমন এক সময় যখন দুআ কবুল করার জন্য আল্লাহর ঘোষণা রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

রাতের এমন একটা অংশ আছে যখন মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যা কিছু চায় আল্লাহ তা দিয়ে দেন। আর এ সময়টা প্রতি রাতে। (মুসলিম)

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন :

আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন, যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে। তখন তিনি বলেন : কে আছে আমার কাছে দুআ করবে আমি কবুল করব? কে আমার কাছে তার যা দরকার প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দিয়ে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি ক্ষমা কেও দেব।

রাতে ঘুম থেকে জেগে দোয়া করা:রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দুয়া কবুলের একটা সময় আছে। এইজন্য মাঝরাতে ঘুম ভাংলে বা তাহাজ্জুদের জন্য ঘুম থেকে উঠার পরে প্রথমে একটা দুয়া পড়ে, পরে দুনিয়া বা আখেরাতের যেকোনো কল্যানের জন্য দুয়া করলে আল্লাহ সেই দুয়া কবুল করে নেন।

হজরত উবাদা বিন সামিত রাজিয়াল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, হজরত নবী করিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে কেউ রাতের বেলা ঘুম থেকে জাগে আর বলে; ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আলহামদুলিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্’ এবং এরপর বলে, ‘আল্লাহুম মাগফিরলি (আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন) অথবা আল্লাহর নিকট কোনো দোয়া করে, তাহলে কবুল করা হবে।’ –সহিহ বোখারি: ১০৮৬দুআ ইউনুস দ্বারা দোয়া করা:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

মাছওয়ালা (ইউনুস আ.) এর দুআ হল যা সে মাছের পেটে থাকা অবস্থায় করেছে;

লাইলাহা ইল্লা আনতা ছুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জলিমীন।

অর্থঃ আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র, সুমহান। আমিই তো অত্যাচারী। (তিরমিজী)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যেকোনো প্রয়োজনে কোনো মুসলিম যদি দুয়া ইউনুস পড়ে, আল্লাহ তার দুয়া কবুল করবেন”।

সুনানে আত-তিরমিযী, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামিঃ ৩৩৮৩।

অন্য হাদীস অনুযায়ী, “দুয়া ইউনুস পড়লে আল্লাহ তার দুঃশ্চিন্তা দূর করে দেবেন”।

উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লা-আনতা, সুবহা’-নাকা ইন্নি কুনতুম-মিনায-যোয়ালিমিন।

অর্থঃ “(হে আল্লাহ) তুমি ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নাই, তুমি পবিত্র ও মহান! নিশ্চয় আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত।” সুরা আল-আম্বিয়াঃ ৮৭।

মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করা

হাদীসে এসেছে: আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন : মুসলিম ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দুআ করলে তা কবুল করা হয়। দুআকারীর মাথার কাছে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা থাকে। যখনই তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দুআ করে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিরিশতা তার দুআ শুনে আমীন বলতে থাকে এবং বলে তুমি যে কল্যাণের জন্য দুআ করলে আল্লাহ অনুরূপ কল্যাণ তোমাকেও দান করুন। (মুসলিম)

এ হাদীস দ্বারা যেমন আমরা দুআ কবুলের বিষয়টি বুঝেছি, এমনিভাবে অপর মুসলমান ভাইদের জন্য দুআ করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়ার কথা শিখেছি। এতে যার জন্য দুআ করা হবে তার যেমন কল্যাণ হবে, তেমনি যিনি দুআ করবেন তিনি লাভবান হবেন দুদিক দিয়ে, প্রথমত তিনি দুআ করার সওয়াব পাবেন। দ্বিতীয়ত তিনি যা দুআ করবেন তা নিজের জন্যও লাভ করবেন।

সিয়ামপালনকারী, মুসাফির, মজলুমের দুআ এবং সন্তানের বিরুদ্ধে মাতা-পিতার দুআ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

তিনটি দুআ কবুল হবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই। সন্তানের বিপক্ষে মাতা-পিতার দুআ, মুসাফিরের দুআ এবং মজলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তির দুআ। (বুখারী-আল আদাবুল মুফরাদ, আবু দাউদ, তিরমিজী)

 

ইফতারের সময় দোয়া করা :সিয়াম পালনকারীর দোয়া কবুল হয়। বিশেষ করে ইফতারের সময়। কারণ ইফতারের সময়টা হল বিনয় ও আল্লাহর জন্য ধৈর্য ধারণের চরম মুহূর্ত। এ সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি দানের মুহূর্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

‘ইফতারের সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর এটা রমজানের প্রতি রাতে। সিয়াম পালনকারী প্রত্যেক বান্দার দোয়া কবুল হয়।'[৭৯]

ইফতার করার পর এ দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত্ত

ذَهَبَ الظَمَأُ، وَابْتَلَّتِ العُرُوْقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ. أبو داود :২৩৫৭

যাহাবা যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরূক ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ

অর্থ: ‘পিপাসা নিবারণ হল, শিরা-উপশিরা সিক্ত হল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কার নির্ধারিত হল।'[৮০]

ইফতারের সময়টা আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার একটা সুযোগ। এ সময়টা যেন বৃথা না যায় এ দিকে খেয়াল রেখে সময়টাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। ইফতারের সময় অন্তর দিয়ে দোয়া-প্রার্থনা করা এবং যা কিছু দোয়া কবুলের অন্তরায় তা থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।

কুরআন তিলাওয়াতের পর দোয়া করা:রোজার সময় কমবেশি সবাই কুরআন তিলাওয়াত করে  থাকি।  যতটুকু তিলাওয়াত করি না কেন, তিলাওয়াতের পরেই দোয়া করার সুযোগ হাতছাড়া করব না। যেকোন ভাল কাজের পর দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভবনা বেশী।

শবে কদরে দোয়া করা: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শবে কদরে সওয়াবের নিয়তে (নফল নামাজের জন্য) দণ্ডায়মান থাকে, তার অতীত সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম)।

শবে কদরের দোয়া:   আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।

এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস আছে, উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলের খেদমতে আরজ করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি আমি শবে কদর সম্পর্কে জানতে পারি তবে আমি কি পড়বো? রাসুল (সা.) উত্তর দেন, এভাবে দোয়া প্রার্থণা করো- ইয়া আল্লাহ নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা পছন্দ করো, তাই আমাকে ক্ষমা করো।

 

 

Facebook Comments