World Tour by Car By A Bangladeshi, Abdus Sattar:সড়ক পথে গাড়ি চালিয়ে প্রথম বাঙালির বিশ্বভ্রমন,আব্দুস ছাত্তার

39

 

সড়ক পথে গাড়ি চালিয়ে প্রথম বাঙালির বিশ্বভ্রমন, আব্দুস ছাত্তার

২০০৯ সালে কুইন্স পার্ক থেকে যাত্রা শুরু |

PROTECT ENVIRONMENT, SAVE THE WORLD” “PROTECT YOUR HEALTH SAVE YOUR FAMILY, DIABETES AWARENESS, KNOW THYSELF KNOW THE WORLD AND ROAD SAFETY FOR ALL. এ কয়টি স্লোগান নিয়ে প্রথম বাঙালি আমি, আব্দুস ছাত্তার ও সাল বয় কে সাথে নিয়ে সড়ক পথে গাড়ি চালিয়ে বিশ্বভ্রমণ যাত্রা শুরু করেছিলাম  ২০০৯ সালের ২রা আগস্ট টরন্টোর ল্যান্ড মার্ক কুইন্স পার্ক থেকে | সেখানে অন্টারিও প্রভিন্শিয়াল সরকারের অনেক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশী কমুনিটির বিশিস্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শুরু হয় এ স্বপ্ন যাত্রার | হ্যালিফ্যাক্স থেকে গাড়িটি জাহাজে তুলে দিয়ে আমি স্যালবয় কে সাথে নিয়ে প্লেনে লন্ডন যাত্রা করি  | গ্যাটউইয়িক এয়ারপোর্ট গিয়ে আমাদের  স্বপ্ন যাত্রার সপ্ন ভঙ্গ হয় মূল্যবান কাগজপত্রসহ  একটি ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে | এয়ার পোর্টে লস্ট এন্ড ফাউন্ড এ রিপোর্ট করায় তারা আশ্বাস দেন ২৪ ঘন্টার ভিতরে বাগটি খুঁজে দেবেন | কিন্তু তারা তা পারেননি, তবে তারা ব্যাগটি  এক সপ্তাহ পর  হাম্প্শ্যার আত্মীয়ের বাসায় পৌছে দিলে আবার শুরু হয় স্বপ্ন যাত্রা | গাড়ির বি এল সহ সব কাগজপত্র নিয়ে হ্যাম্পশায়ার থেকে লিভারপুল এ পোর্ট থেকে গাড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে প্রকৃত বিশ্বভ্রমণ শুরু করি | ইংল্যান্ড ঘুরে ব্রিটিস চ্যানেল পার হয়ে ফ্রান্স | ফ্রান্স থেকে জার্মানি হয়ে ইউরোপ ঘুরে বুলগেরিয়া দিয়ে তুরস্ক | তুরস্কে গাড়ি ডাকাতির কবলে পড়ে যথা সর্বশ ক্ষুয়ে আশ্রয় নিই  আনকারার বাংলাদেশ হাইকমিসনে | এরপর কিছু অর্থ সংগ্রহ করে তুরস্ক থেকে ইরান, পাকিস্তান হয়ে ভারত | ভারত তাদের দেশে এ গাড়িটি চালাতে না দিয়ে ডিটেনসন রেখে দিয়ে ৬মাস পরে ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তান এ ফেরত পাঠায় | পাকিস্তানের করাচী বন্দর থেকে গাড়িটি জাহাজে তুলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পাঠানো হয় যা ২৯ মে ২০১০এ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছায় | এরপর থেকে শুরু হয় নানা জটিলতা | এমপি, মন্ত্রী, নেতা নেত্রীদের কাছে দৌড়ঝাপ করেও কোন লাভ হয়নি | ইতিমধ্যে কেটে গেছে ৬ ছয়টি বছর | অবশেষে তত্কালীন মাননীয় অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল মুহিত সাহেবের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে ৩ মে ২০১৬ তে গাড়িটি মুক্তি পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে আবার শুরু হয় বিশ্বভ্রমন | বাংলাদেশ থেকে ভারতের কোলকাতা | কোলকাতায় এক মহা বিপর্জয় ঘটে যায় ৯/৯/১৫ তে | গাড়ি থেকে পাসপোর্টসহ গাড়ির যাবতীয় কাগজপত্র চুরি হয়ে যায় | ফলে ভারতে আটকা পড়ে যাই | এরপর সব কাগজ পত্র নতুন করে সংগ্রহ করে ভারত থেকে নেপাল যাত্রা | নেপাল থেকে ফের ভারত | ভারত থেকে জাহাজ যোগে মালয়শিয়া হয়ে সিঙ্গাপুর | সিঙ্গাপুর থেকে ফের মালয়েশিয়া হয়ে থাইল্যান্ড | থাইল্যান্ড থেকে কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম হয়ে আবারও থাইল্যান্ড | এরপর মালয়েশিয়া থেকে গাড়িটি জাহাজে তুলে দিয়ে দুবাই | গাড়ি ছাড়া শ্রীলংকা হয়ে দুবাই | দুবাই থেকে ওমান হয়ে ইয়েমেন | ইয়েমেন বর্ডার থেকে আমাকে  ইয়েমেন ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠান হয় ওমানে | ওমানে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহার সিটিতে  গাড়ি রেখে কানাডা আসি  চিকিত্সার জন্য | এখনো পুরাপুরি সুস্থ হইনি,  চিকিতসাধীন আছি | সুস্থ হলেই আবার ফিরে যাব বিশ্বভ্রমনের গাড়িতে | |

ইতিমধ্যে ৩ টি মহাদেশ ভ্রমন শেষ করেছি | এখনও ৩ টি মহাদেশ বাকি | সুস্থ হলে এ ৩ টি মহাদেশ ঘুরে গিনিস বুকে বাংলাদেশের নাম লেখাতে চাই |

তাছাড়া ইটা শুধু নিছক বিশ্বভ্রমণ নয় এই বিশ্বভ্রমণের মাধ্যমে আমি  বিশ্বের ৫০ কোটি বাঙালির প্রতিনিধ্ক্ত করছি | বিভিন্ন দেশে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে  বিশ্বপরিসরে বাংলাভাষাভাষীদের অবদান স্বরণ করিয়ে দিয়ে তাদের ন্যায্য সম্মান টুকু দেওয়ার জোর দাবি জানিয়ে চলেছি নিরন্তর | বাকি ৩টি মহাদেশ- অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিন আমেরিকা ঘুরে কানাডা ফিরার আশা রাখি |

বি: দ্র: যদি কেহ এ বিশ্বভ্রমনে যেতে চান তা হলে যোগাযোগ করতে পারেন (satth@hotmail.com) এ ঠিকানায় |

 

Facebook Comments