World Tour by Car, Abdus Satter, সড়ক পথে গাড়ি চালিয়ে প্রথম বাঙালির বিশ্বভ্রমন, আব্দুস ছাত্তার

212

ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্স যাওয়ার পথে ইংলিশ চ্যানেল পারের অপেক্ষায় |

সড়ক পথে গাড়ি চালিয়ে প্রথম বাঙালির বিশ্বভ্রমন, আব্দুস ছাত্তার

PROTECT ENVIRONMENT, SAVE THE WORLD” “PROTECT YOUR HEALTH SAVE YOUR FAMILY, DIABETES AWARENESS, KNOW THYSELF KNOW THE WORLD AND ROAD SAFETY FOR ALL. এ কয়টি স্লোগান নিয়ে প্রথম বাঙালি আমি, আব্দুস ছাত্তার ও সাল বয় কে সাথে নিয়ে সড়ক পথে গাড়ি চালিয়ে বিশ্বভ্রমণ যাত্রা শুরু করি ২০০৯ সালের ২রা আগস্ট টরন্টোর ল্যান্ড মার্ক কুইন্স পার্ক থেকে | সেখানে অন্টারিও প্রভিন্শিয়াল সরকারের অনেক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশী কমুনিটির বিশিস্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শুরু হয় এ স্বপ্ন যাত্রার | হ্যালিফ্যাক্স থেকে গাড়িটি জাহাজে তুলে দিয়ে আমি স্যালবয় কে সাথে নিয়ে প্লেনে লন্ডন যাত্রা করি  | গ্যাটউইয়িক এয়ারপোর্ট গিয়ে আমাদের  স্বপ্ন যাত্রার সপ্ন ভঙ্গ হয় মূল্যবান কাগজপত্রসহ  একটি ব্যাগ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে | এয়ার পোর্টে লস্ট এন্ড ফাউন্ড এ রিপোর্ট করায় তারা আশ্বাস দেন ২৪ ঘন্টার ভিতরে বাগটি খুঁজে দেবেন | কিন্তু তারা তা পারেননি, তবে তারা ব্যাগটি  এক সপ্তাহ পর  হাম্প্শ্যার আত্মীয়ের বাসায় পৌছে দিলে আবার শুরু হয় স্বপ্ন যাত্রা | গাড়ির বি এল সহ সব কাগজপত্র নিয়ে হ্যাম্পশায়ার থেকে লিভারপুল  পোর্ট থেকে গাড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে প্রকৃত বিশ্বভ্রমণ শুরু করি | ইংল্যান্ড ঘুরে ব্রিটিস চ্যানেল পার হয়ে ফ্রান্স | ফ্রান্স থেকে জার্মানি হয়ে ইউরোপ ঘুরে বুলগেরিয়া দিয়ে তুরস্ক | তুরস্কে ইব্রাহিম (আ:) এর আগুনে নিক্ষেপ করার ঐতিহাসিক জায়গাটি দেখে ফিরার পথে গাড়ি ডাকাতির কবলে পড়ে যথা সর্বশ ক্ষুয়ে আশ্রয় নিই  আনকারার বাংলাদেশ হাইকমিসনে | এরপর কিছু অর্থ সংগ্রহ করে তুরস্ক থেকে ইরান, পাকিস্তান হয়ে ভারত | ভারত তাদের দেশে এ গাড়িটি চালাতে না দিয়ে ডিটেনসন রেখে দেয় | ৬মাস পরে ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তান এ ফেরত পাঠায় | পাকিস্তানের করাচী বন্দর থেকে গাড়িটি জাহাজে তুলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পাঠিয়ে আমি প্লেনে ঢাকা যায় | আর আমার গাড়িটি ২৯ মে ২০১০এ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছায় | এরপর থেকে শুরু হয় নানা জটিলতা | এমপি, মন্ত্রী, নেতা নেত্রীদের কাছে দৌড়ঝাপ করেও কোন লাভ হয়নি | ইতিমধ্যে কেটে গেছে ৬ ছয়টি বছর | অবশেষে তত্কালীন মাননীয় অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল মুহিত সাহেবের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে ৩ মে ২০১৬ তে গাড়িটি মুক্তি পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে আবার শুরু হয় বিশ্বভ্রমন | বাংলাদেশ থেকে ভারতের কোলকাতা | কোলকাতায় এক মহা বিপর্জয় ঘটে যায় ৯/৯/১৫ তে | গাড়ি থেকে পাসপোর্টসহ গাড়ির যাবতীয় কাগজপত্র চুরি হয়ে যায় | ফলে ভারতে আটকা পড়ে যাই | এরপর সব কাগজ পত্র নতুন করে সংগ্রহ করে ভারত থেকে নেপাল যাত্রা করি | নেপাল থেকে ফের ভারত | ভারত থেকে জাহাজ যোগে মালয়শিয়া হয়ে সিঙ্গাপুর | সিঙ্গাপুর থেকে ফের মালয়েশিয়া হয়ে থাইল্যান্ড | থাইল্যান্ড থেকে কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম হয়ে আবারও থাইল্যান্ড | থাইল্যান্ড থেকে গাড়িটি নান জটিলতায় দুবাই  শিপ করতে না পেরে মালয়শিয়া যায় | এরপর মালয়েশিয়া থেকে গাড়িটি জাহাজে তুলে দিয়ে দুবাই | গাড়ি ছাড়া শ্রীলংকা হয়ে দুবাই | দুবাই থেকে ওমান হয়ে ইয়েমেন | ইয়েমেন বর্ডার থেকে আমাকে  ইয়েমেন ঢুকতে না দিয়ে ফেরত পাঠান হয় ওমানে | ওমানে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহার সিটিতে  গাড়ি ফেলে রেখে কানাডা আসি  চিকিত্সার জন্য | এখনো পুরাপুরি সুস্থ হইনি,  চিকিতসাধীন আছি | সুস্থ হলেই আবার ফিরে যাব বিশ্বভ্রমনের গাড়িতে ওমানে |

ইতিমধ্যে ৩ টি মহাদেশ ভ্রমন শেষ করেছি | এখনও ৩ টি মহাদেশ বাকি | সুস্থ হলে এ ৩ টি মহাদেশ ঘুরে গিনিস বুকে বাংলাদেশের নাম লেখাতে চাই |

তাছাড়া ইটা শুধু নিছক বিশ্বভ্রমণ নয় এই বিশ্বভ্রমণের মাধ্যমে আমি  বিশ্বের ৫০ কোটি বাঙালির প্রতিনিধ্ক্ত করছি | বিভিন্ন দেশে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে  বিশ্বপরিসরে বাংলাভাষাভাষীদের অবদান স্বরণ করিয়ে দিয়ে তাদের ন্যায্য সম্মান টুকু দেওয়ার জোর দাবি জানিয়ে চলেছি নিরন্তর | বাকি ৩টি মহাদেশ- অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিন আমেরিকা ঘুরে কানাডা ফিরার আশা রাখি |

বি: দ্র: যদি কেহ এ বিশ্বভ্রমনে যেতে চান তা হলে যোগাযোগ করতে পারেন (satth@hotmail.com) এ ঠিকানায় |

 

Facebook Comments